মাদারীপুরের রাজৈরে নিরাপত্তা প্রহরীর ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে আত্মহত্যা

ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি:
মাদারীপুরের রাজৈরে ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে রেদওয়ান হাসান নামে এক নিরাপত্তা প্রহরী। মৃত্যুর আগে সে তার ফেসবুকে তার মৃত্যুর জন্য ২ জন দায়ী বলে স্টাটাসে উল্লেখ করেন। আত্মহত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোমবার রাতে রেদওয়ান হোসেন নামে রাজৈর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মৃত্যুর আগে রেদওয়ান তার “এমডি মিলন খান” নামে ফেসবুক আইডিতে স্টাটাস দেন । সেখানে নিহত রেদওয়ান লেখেন“ আমার মৃত্যুর জন্য প্রতিবন্দি কর্মকর্তা দাই আর ইমনের মা দাই”। বিষয়টি গোপনে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করা হলেও নিহত রেদওয়ানের দেয়া ফেসবুক স্টাটাসের কারণে জনাজানি হয়ে যায়। নিহত রেদওয়ান হাসান তার অফিসের নিজস্ব রুমে সোমবার রাতে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে তার সহকর্মীরা রুমের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া না পেয়ে পুলিশ কে খবর দিলে পুলিশ ও রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাশটি উদ্ধার করে। ময়না তদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয় মঙ্গলবার বিকেলে। নিহতের স্টাটাসে যে দুজনের নাম উল্লেখ করে মৃত্যুর জন্য । তার মধ্যে একজন রাজৈর উপজেলা প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা নয়ন মনি বিশ^াস ও ইমন নামে এক রোগীর মা। ইমনের কয়েক বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে দুই পা অকেজো হয়ে যায়। রাজৈর থানার গোপালগঞ্জ গ্রামে ইমনের বাড়িতে গিয়ে রেদওয়ান চিকিৎসা দিত বলে জানা যায়।নিহত রেদওয়ান পটুয়াখালী জেলার ধুমকী থানার উত্তর মুড়াদিয়া গ্রামের রফিক খানের ছেলে।
নিহত রেদওয়ানের স্বজন সোহেল তালুকদার বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, রেদওয়ান খুব ভাল ছেলে ছিল। কোন খারাপ অভ্যাস তার ছিল না। ছয় বছর ধরে চাকুরী করে পুরা পরিবারটাকে টেনে তুলছে। দুইটা বোন বিবাহ দিছে। লাশ আনতে গেলে অফিসের কেউ আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করেনি। কোন শান্তনা পর্যন্ত দেয়নি। তারা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আমার ভাইকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাউকে জানতে দেয়নি। আমরা এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রতিবন্ধী কর্মকর্তা নয়ন মনি বিশ^াস বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম। অফিসের অন্যান্য স্টাফরা ছিল। আত্মহত্যা করার পিছনে আমাকে দায়ী করার কোন কারন দেখতেছি না। তবে কিছুদিন আগে এক রোগী মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন যে রেদওয়ান বাইরে রোগী দেখে তাদের থেকে টাকা পয়সা নেন।তখন আমি অফিসের সবার উপস্থিতিতে রেদওয়ানকে রোগী দেখতে নিষেধ করি। তাকে বলেছিলাম তুমি নিরাপত্তা কর্মী তোমার বাইরে কোন কাজ নেই। আর কোন ঘটনা তার সাথে আমাদের কারোর ই হয়নি।
স্থানীয় করিম মিয়া জানান, হয়তো ইমনের মা ই অফিসারের কাছে অভিযোগ করছে যে রেদওয়ান বাহিরে চিকিৎসা দিয়ে টাকা নেন। যে কারনে ইমনের মায়ের কথাও স্টাটাসে উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সাদি জানান, পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্ত জন্য প্রেরণ করেছে। নিহতের ফেসবুকে দেয়া স্টাটাসটি আমরা পেয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা।
লাশ উদ্ধারের বিষয়ে জানার জন্য রাজৈর উপজেলা কর্মকর্তা আনিসুজ্জামানকে কয়েক দফা কল করলে কল রিসিভ না করার কারনে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড.রহিমা খাতুন বলেন, সিকিউরিটি গার্ডের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। যতটুকু জেনেছি ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। ফেসবুকের স্টাটাস দিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *