কালকিনির মৌলভীকান্দি ব্রীজের বেহাল দশা, ব্রীজতো নয়, এ যেন মরন ফাঁদ

কালকিনি উপজেলার সাথে এনায়েতনগর, পূর্ব এনায়েতনগর, বাঁশগাড়ি ও ল²ীপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম মৌলভীকান্দি ব্রীজটি এখন সংস্কারের অভাবে মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রীজটি পারাপারের সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লাখ-লাখ মানুষের। অতি দুঃখের বিষয় যে বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও ব্রীজটি বেহাল দশায় পরে রয়েছে। এর ফলে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। তারপরও এ ব্রীজটি সংস্কার নিয়ে কর্তৃপক্ষের নেই কোন মাথা ব্যথা। জরুরীভিত্তিতে এলাকাবাসী ব্রীজটি সংস্কারের দাবি জানালে কোন সুফল পাচ্ছেনা বলে অভিযোগে জানা যায়।
বুধবার দুপুরে সরেজিমন ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এনায়েনতনগর এলাকার মৌলভীকান্দি পুরানো ব্রীজটির উপরের অংশের সিমেন্টের তৈরী পাটাতন ধসে গেছে। ব্রীজের উপরে দুইটি বড়-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ব্রিজের রড বের হয়ে গেছে। ওই গর্তের পাশ দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যান চলাচল করছে। যান চলাচলের সময় দুর্ঘটার শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। এ ছাড়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ওই গর্তের পাশ দিয়েই হেটে প্রতিনিয়ত ব্রীজ পার হচ্ছে। বিগত এক বছর ধরে ব্রীজের উপর ওই বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ধীরে-ধীরে ওই গর্ত বড় হয়ে যে কোন মুহূর্তে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে এবং কি ব্রীজটি যে কোন মুহূর্তে খালের মধ্যে ধসে পরে যেতে পারে। এ ছাড়া অনেক আগেই কর্তৃপক্ষ ওই ব্রীজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন। তারপরও রহস্যজনক কারনে সংস্কার করার নেই কোন পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে পুরো উপজেলায় ব্রীজটি সংস্কার না হওয়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে এখন।
শিক্ষক মহশিন, চিকিৎসক কেরামত, পথচারী রিপন তালুকদার, আলম, শিক্ষার্থী ময়না ও আজিজসহ বেশ কয়েকজন বলেন, আমরা বড় বিপদের মধ্যে আছি ব্রীজ পারাপার নিয়ে। কোন সময় ব্রীজের গর্তের ফাঁকা দিয়ে পরে গিয়ে আমাদের মৃত্যু বরন করতে হয়। আমাদের জীবন বাঁচাতে হলে ব্রীজটি দ্রæত নির্মাণ করার প্রয়োজন। এটা নির্মাণে আমাদের প্রানের দাবিতে পরিনত হয়েছে।
এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ মারুফ বলেন, এই ব্রীজটি ঠিক করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আরো আগে। কিন্তু কি কারণে হচ্ছে না তা বলতে পারব না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী এসএম ইয়াফি বলেন, মৌলভীকান্দি ব্রীজটি নতুনভাবে নির্মাণ করার জন্য আমাদের ঢাকা অফিসে অনুমতি চেয়ে কাগজ পাঠিয়েছি। অনুমতি পেলে নির্মাণ কাজ হয়ে যাবে। আর ওই ব্রীজ কয়েকবার জোরাতালি দিয়েও কাজ হচ্ছেনা ভেঙে পড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *